April 20, 2026, 1:35 am

পুঠিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের গাছ কাটার অভিযোগ !

পুঠিয়ায় অনুমোদন ছাড়াই স্কুলের গাছ কাটলো প্রধান শিক্ষক!

রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার শুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি তিনটি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে স্কুলের ভেতরে। আর এর নেতৃত্ব দিয়েছেন স্কুটি প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক নিজেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক মেহগনির বড় বড় ৩টি গাছ কেটে, সেই গাছের টুকরো গুলো স্কুলের মধ্যে ফেলে রেখেছেন। পরিবেশের ক্ষতি করে এভাবে স্কুলের গাছ কাটার ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীদের মাঝে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। আর প্রধান শিক্ষকের এমন কাণ্ডে হতভাগ সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক দাবি করছেন গাছ কাটার ব্যাপারে দরখাস্ত দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর যদিও, এবিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেসুর রহমান। অন্যদিকে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় গোটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষক টিপু সুলতান দাবী করছেন, গাছ কেটে ওই দিক দিয়ে স্কুলের বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি করা হবে। পাশাপাশি গাছের ডালপালা বিক্রি করে দেওয়া হবে কাজের লোকের মজুরি। এসব বিষয়ে স্কুলটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক কেউই মানেননি আইনের নিয়ম কানুন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, স্কুলের ঐদিক দিয়ে প্রাচীর তৈরি করা হবে বলে গাছ কাটা হয়েছে আর এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক কর্মকর্তা বরাবর দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে। লিখিত বা মৌখিক অনুমোদন এখনো কেউ দেয়নি।

আরো জানতে যোগাযোগ করা হলে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, গাছ বিক্রি করে আমরা খাইনি। কাজ বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়া হবে। আর গাছের ডালপালা বিক্রি করে কাজের লোকের টাকা দেওয়া হবে। কেন অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটা হলো এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আপনারা পরে একসময় দেখা কইরেন।

ওই সব বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান তিনি বলেন, গাছ কাটার ব্যাপারে আমার কাছে দরখাস্ত দিয়েছিল কিন্তু আমি অনুমোদন দেইনি আর আমি এ বিষয়ে অনুমোদন দিতে পারি না। সেই ক্ষমতা আমার নাই। যদি এভাবে গাছ কেটেই থাকে তাহলে খুবই অন্যায় কাজ করেছে পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা